অভয়নগরে প্রসূতির মৃত্যু: ক্লিনিকের ওটি সিলগালা, ৩ লাখে দফারফা

নওয়াপাড়া প্রতিনিধি

যশোরের অভয়নগরে ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় রত্না বেগম (৪০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্লিনিকটি ঘেরাও করে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মঞ্জুর মোর্শেদকে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন ক্ষুব্ধ স্বজনেরা। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার সিলগালা করা হলেও ৩ লাখ টাকায় বিষয়টি রফা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহত রত্না বেগম যশোর সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত এয়াকুব মোল্যার মেয়ে। তবে সদ্যজাত শিশুটি সুস্থ রয়েছে।

স্বজন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য রত্না বেগমকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত ৯টার দিকে ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ অপারেশন শেষে চলে যান। কিছুক্ষণ পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নার্সদের জানানো হলেও তারা তা আমলে নেননি। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ভোররাতে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর হাসপাতালের নার্স ও স্টাফরা পালিয়ে যান।

ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, “অপারেশন শেষ করে চলে গিয়েছিলাম। সকালে এসে মৃত্যুর খবর পাই। স্ট্রোক বা অতিরিক্ত রক্তচাপের কারণে মৃত্যু হতে পারে।”

ক্লিনিক ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম রাতে ডিউটি ডাক্তার থাকার দাবি করলেও স্বজনেরা জানান, রাতে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না।

এদিকে মৃত্যুর পর স্থানীয় প্রশাসন ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার সিলগালা করে দেয়। তবে পরবর্তীতে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায় ভুক্তভোগী পরিবার।

নিহতের এক স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসনের সহযোগিতা না পেয়ে বাধ্য হয়ে আপস করতে হয়েছে। আমরা কোনো বিচার পেলাম না।”

থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন